১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

লাশে করোনার কার্যকারিতা ৩ ঘণ্টা পর থাকে না

Coronavirus on dead body
Coronavirus on dead body

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা লাশে করোনার কার্যকারিতা সম্পর্কে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে তিন ঘণ্টা পর আর ভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না। একই সঙ্গে করোনায় মৃত হিসেবে আলাদা কোনো কবরস্থানও নির্দিষ্ট করার দরকার নেই।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, এটা প্রমাণিত হয়নি মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। মৃতদেহ সৎকার করতে তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগেই যায়। তিন ঘণ্টা পর মৃত ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাসের আর কার্যকারিতা থাকে না। সে জন্য মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই।’

অর্থাৎ ৩/৪ ঘন্টা পর লাশে করোনার কার্যকারিতা নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা যায়।

লাশে করোনার কার্যকারিতা

লাশে করোনার কার্যকারিতা

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সৎকার যেকোনো জায়গায় করা যাবে উল্লেখ করে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা কবরস্থানে কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে মৃতদেহ দাফন করতে পারবেন। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাঁদের বিধি অনুযায়ী যেকোনো জায়গায় মৃতদেহের সৎকার করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন, সৎকার বা ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) ওয়েবসাইটে রয়েছে। তবু বিশেষভাবে সবার অবগতির জন্য বলতে চাই, মৃতদেহ নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করে দাফন বা সৎকার করা যায়।’

অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডেড বডি কোন ব্যাগ বা ব্যাগ পাওয়া না গেলে পলিথিনে মুড়িয়ে মনোনীত কবরস্থান বা পারিবারিকভাবে নির্ধারিত স্থানে দাফন করা যাবে। করোনায় মৃত হিসেবে আলাদা কোনো কবরস্থান নির্দিষ্ট করার দরকার নেই। পারিবারিক কবরস্থানেই এই মৃতদেহ দাফন করা যাবে এবং অন্য ধর্মের জন্য তাদের নির্ধারিত স্থানে সৎকার করা যাবে।

করোনাভাইরাসের শুরুর ইতিহাস:

করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়। তবে অনেকের সন্দেহ যে এই ভাইরাসটি চীন সরকার তার দেশের গরিব জনগনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য নিজেরাই তৈরি করে নিজেরাই ছড়িয়ে ছিলো। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ পাওয়া যায়(যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনাভাইরাস নামেই পরিচিত। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।

করোনাভাইরাসে প্রাথমিক লক্ষনসমূহ:

  • জ্বর
  • অবসাদ
  • শুষ্ক কাশি
  • বমি হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • গলা ব্যাথা
  • অঙ্গ বিকল হওয়া
  • মাথা ব্যাথা
  • পেটের সমস্যা

 11,979 total views,  21 views today

Please Like & Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

1 Comment on "লাশে করোনার কার্যকারিতা ৩ ঘণ্টা পর থাকে না"

  1. সাবধান থাকা ভাল। তবে অতিরিক্ত সাবধান থাকতে গিয়ে আমরা মানবিকতা হারিয়ে ফেলছি।

Leave a comment

Your email address will not be published.


*